আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ যখন চরমে, তখন মানবিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের খাদ্যসংকট নিরসনে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।

সোমবার (১৩ জুলাই) ১১ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার নবগঠিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া, আবাসন প্রকল্প ও মোরারপাড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

১১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তিনটি গ্রামের অন্তত ৫০০ মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ৫১০টি শুকনা খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, আলু, ডাল, সয়াবিন তেল, চিড়া, পেঁয়াজ, গুঁড়, লবণসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী রাখা হয়েছে, যাতে দুর্গত পরিবারগুলো কয়েক দিনের খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারে।

বিজিবি জানায়, শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্গত মানুষের অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক এলাকায় রান্নার সুযোগ না থাকায় বিজিবির সরবরাহ করা রান্না করা খাবার ও শুকনা খাদ্যসামগ্রী দুর্গত মানুষের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রধান দায়িত্ব সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা। তবে যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি সবসময় জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে ১১ বিজিবির সদস্যরা।”